ফোন হারালে বা চুরি হলে কী কী করবেন? ১০টি জরুরি ধাপ

ফোন হারালে বা চুরি হলে কী কী করবেন, এই প্রশ্নের উত্তর আমি আগে জানতাম না। জেনেছি আমার বন্ধু রাফির একটা বাজে অভিজ্ঞতা থেকে। গত বছর ঈদের আগের দিন ও বাসে করে বাড়ি ফিরছিল। আর সেই  বাসে প্রচণ্ড ভিড় ছিল। নামার সময় পকেটে হাত দিয়ে দেখে তার ফোনটি আর  নেই। প্রথমে ভেবেছিল সিটের নিচে পড়েছে, কিন্তু পুরো বাস খুঁজেও পেল না। অন্যের ফোন থেকে নিজের নম্বরে কল দিয়ে দেখে ততক্ষণে ফোন বন্ধ হয়ে গেছে।


ফোন হারালে বা চুরি হলে কী কী করবেন? ১০টি জরুরি ধাপ


ফোনের দাম নিয়ে রাফির তেমন মাথাব্যথা ছিল না। ওর আসল ভয় ছিল ভেতরের জিনিসপত্র নিয়ে। বিকাশ অ্যাপ, ফেসবুক, জিমেইল, অফিসের ফাইল আর পরিবারের ছবি সব ওই একটা ফোনেই ছিল। ও প্রায় এক ঘণ্টা বসে ভাবল কী করবে। এই ঘটনার পর আমি বুঝেছি, ফোন হারালে কিংবা মোবাইল চুরি হলে প্রথম কয়েক মিনিটের সিদ্ধান্তই ঠিক করে দেয় ক্ষতি কতটা হবে। এই লেখায় আমি রাইহান আপনাদের পুরো প্রক্রিয়াটা ধাপে ধাপে সাজিয়েছি, যাতে আপনার কখনো এমন পরিস্থিতি হলে আপনি জানেন কোনটার পর কোনটা করবেন।

ধাপ ১: মাথা ঠান্ডা রেখে অন্য ফোন থেকে নিজের নম্বরে কল দিন

ফোন হারিয়ে গেলে প্রথমেই আতঙ্কিত না হয়ে অন্য কারও ফোন থেকে নিজের নম্বরে কল করুন। অনেক সময় ফোন আসলে চুরি হয়নি, কোথাও পড়ে গেছে বা কোনো ভালো মানুষ কুড়িয়ে পেয়েছে। তিনি ফোন ধরলে সেখান থেকেই ফেরত পাওয়ার রাস্তা খুলে যায়। কেউ ধরলে শান্তভাবে কথা বলুন এবং ফোনটা কীভাবে ফেরত পাবেন জানতে চান। আর ফোন বন্ধ পেলেও হতাশ হবেন না, কারণ পরের ধাপগুলো তখনও কাজে লাগে আপনার।

ধাপ ২: অ্যান্ড্রয়েড ফোন হারালে গুগল ফাইন্ড হাব দিয়ে খুঁজুন

আপনার ফোন যদি অ্যান্ড্রয়েড হয়, তাহলে সবচেয়ে কাজের টুল গুগলের ফাইন্ড হাব। অনেকে একে এখনো গুগল ফাইন্ড মাই ডিভাইস নামেই চেনেন, কারণ আগে এটার এই নামই ছিল। মজার ব্যাপার হলো, গুগলের তথ্য অনুযায়ী নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এটা সাধারণত আগে থেকেই চালু থাকে, যদি না আপনি নিজে কখনো বন্ধ করে থাকেন।

কাজটা করতে হবে এভাবে। অন্য কোনো ফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটারে একটা ব্রাউজার খুলে android.com/find ঠিকানায় যান। ইচ্ছা করলে গুগলে সার্চ করে ফাইন্ড হাব বা গুগল ফাইন্ড মাই ডিভাইস লিখেও পৌঁছাতে পারেন। এরপর যে জিমেইল অ্যাকাউন্টটা আপনার হারানো ফোনে লগইন করা ছিল, সেই জিমেইল আর পাসওয়ার্ড দিয়ে সাইন ইন করুন। বন্ধুর ফোন ব্যবহার করলে তার জিমেইলে নয়, ফাইন্ড হাব অ্যাপে গেস্ট মোডে নিজের অ্যাকাউন্টে ঢুকুন। এতে বন্ধুর অ্যাকাউন্টের কোনো ক্ষতি হয় না। সাইন ইন করলে আপনার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত সব ডিভাইসের তালিকা দেখতে পাবেন। সেখান থেকে হারানো ফোনটা বেছে নিলে ম্যাপে ফোনের বর্তমান বা সর্বশেষ জানা অবস্থান দেখা যাবে।

লোকেশন দেখার পর আপনার সামনে কয়েকটা অপশন থাকে। প্রথম অপশন প্লে সাউন্ড। ফোন সাইলেন্ট থাকলেও এটা কয়েক মিনিট জোরে বাজে, কাছাকাছি কোথাও থাকলে খুব কাজে আসে। দ্বিতীয় অপশন সিকিউর ডিভাইস বা মার্ক অ্যাজ লস্ট। এটা চালু করলে ফোন লক হয়ে যায়, আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট থেকে লগআউট হয়ে যায় এবং আপনি চাইলে লক স্ক্রিনে একটা বার্তা ও বিকল্প ফোন নম্বর দিয়ে রাখতে পারেন, যাতে সৎ কেউ ফোন পেলে আপনাকে ফোন করতে পারে। তৃতীয় অপশন ইরেজ ডিভাইস, মানে সব তথ্য মুছে ফেলা। এটা শেষ উপায়। গুগল নিজেই সতর্ক করেছে, মুছে ফেলার পর ফাইন্ড হাবে আর ফোনের অবস্থান দেখা যাবে না।

ফাইন্ড হাবের সেটিংসে গেলে ফোনের আইএমইআই নম্বরও দেখা যায়। এই নম্বরটা পরে জিডি আর ফোন ব্লকের জন্য লাগবে, তাই ওখান থেকে টুকে নিন। আরেকটা তথ্য কাজে লাগতে পারে। গুগল android.com/lock নামে একটা রিমোট লক সুবিধাও দিয়েছে, যেখানে ফোন নম্বর দিয়ে স্ক্রিন লক করা যায়। তবে এটা আগে থেকে চালু করা থাকতে হয়, ফোনে স্ক্রিন লক এবং সক্রিয় সিম লাগে।

ধাপ ৩: আইফোন হারালে অ্যাপলের ফাইন্ড মাই দিয়ে লস্ট মোড চালু করুন

আইফোন বা আইপ্যাড হারালে একই কাজ আপনি ফাইন্ড মাই দিয়ে করবেন। অন্য কোনো অ্যাপল ডিভাইস থাকলে সেখানে ফাইন্ড মাই অ্যাপ খুলুন। না থাকলে যেকোনো কম্পিউটার বা ফোনের ব্রাউজারে icloud.com/find ঠিকানায় যান। অ্যাপল আইডি আর পাসওয়ার্ড দিয়ে সাইন ইন করুন। এটা অবশ্যই সেই অ্যাপল আইডি হতে হবে, যেটা হারানো আইফোনে ব্যবহার হচ্ছিল। তারপর অল ডিভাইসেস থেকে আপনার আইফোন বেছে নিলে ম্যাপে অবস্থান দেখা যাবে।

এখান থেকেও তিনটা কাজ করা যায়। প্রথমে প্লে সাউন্ড, তারপর মার্ক অ্যাজ লস্ট বা লস্ট মোড, আর সবশেষে ইরেজ আইফোন। লস্ট মোড চালু করলে ফোন পাসকোড দিয়ে লক হয়ে যায় এবং আপনি লক স্ক্রিনে একটা ফোন নম্বর ও বার্তা দেখাতে পারেন। অ্যাপলের নিয়মে লস্ট মোড চালু করতে ইন্টারনেট সংযোগ লাগে, তবে ফাইন্ড মাই নেটওয়ার্ক চালু থাকলে ইন্টারনেট ছাড়াও ফোনের অবস্থান পাওয়া যেতে পারে।

এখানে আমি একটা ভুলের কথা আলাদা করে বলব, যেটা অনেকে করেন। ফোন খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চলার সময় ফাইন্ড মাই থেকে ডিভাইসটা সরিয়ে ফেলবেন না। সরিয়ে ফেললে অ্যাক্টিভেশন লক উঠে যেতে পারে, আর তখন চোরের পক্ষে ফোন নতুন করে চালু করা বা বিক্রি করা সহজ হয়ে যায়। আগে লস্ট মোড দিন, তারপর বাকি কাজ।

ধাপ ৪: বন্ধ মোবাইল খুঁজে পাওয়ার উপায় কী?

অনেকে জিজ্ঞেস করেন, ফোন বন্ধ করে দিলে কি আর খোঁজা যায় না। উত্তরটা হলো, লাইভ লোকেশন পাওয়া যায় না, কিন্তু একেবারে আশা শেষও হয় না। ফোন বন্ধ হওয়ার ঠিক আগে নেটওয়ার্কে যে শেষ অবস্থানটা পাঠানো হয়েছিল, সেটা ফাইন্ড হাব বা ফাইন্ড মাইতে দেখা যেতে পারে। তাছাড়া অ্যান্ড্রয়েডে অফলাইন ফাইন্ডিং সেটিংস আগে থেকে চালু থাকলে ফোন ইন্টারনেটের বাইরে থাকলেও আশপাশের অন্য ডিভাইসের মাধ্যমে তার অবস্থান জানা সম্ভব। এই কারণেই আমি পরামর্শ দেব, আজই সেটিংসে গিয়ে দেখে নিন আপনার ফোনে এই অপশনটা চালু আছে কি না। শেষ অবস্থানের স্ক্রিনশট রেখে দিন, কারণ পুলিশকে এই তথ্য দিলে তদন্তে সুবিধা হয়।

ধাপ ৫: সিম কার্ড ব্লক করুন

মোবাইল চুরি হলে করণীয়র তালিকায় আমি সিম ব্লককে সবার ওপরের দিকে রাখি। কারণ আপনার নম্বরে ব্যাংকের ওটিপি, ফেসবুকের রিসেট কোড আর নানা অ্যাপের লগইন কোড আসে। ফোন লক থাকলেও কেউ সিমটা খুলে অন্য ফোনে বসালেই সেই কোডগুলো পেয়ে যেতে পারে। তাই অন্য কারও ফোন থেকে আপনার অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে সিম ব্লক করান। পরে এনআইডি দেখিয়ে একই নম্বরের নতুন সিম তুলে নিতে পারবেন।

ধাপ ৬: বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করুন

ফোনে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ থাকলে এক মিনিটও দেরি করবেন না। বিশেষ করে ফোনটা যদি আনলক অবস্থায় ছিনতাই হয়ে থাকে, তাহলে সবার আগে এই কাজটাই করুন। বিকাশের হেল্পলাইন ১৬২৪৭ আর নগদের ১৬১৬৭। রকেট ও আপনার ব্যাংকের নম্বর তাদের অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে মিলিয়ে নেবেন, কারণ ইন্টারনেটে ভুয়া হেল্পলাইন নম্বরও ঘোরে। ফোন করে অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বলুন অথবা পিন বদলে দিন। তারপর সাম্প্রতিক লেনদেনগুলো দেখে নিন। অচেনা কিছু পেলে সঙ্গে সঙ্গে জানান।

ধাপ ৭: গুগল, অ্যাপল ও সোশ্যাল মিডিয়ার পাসওয়ার্ড বদলান

আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট বা অ্যাপল আইডিতে ইমেইল, ছবি, কন্টাক্ট আর আরও অনেক অ্যাকাউন্টের রিসেটের চাবিকাঠি থাকে। তাই অন্য ডিভাইস থেকে সেখানে ঢুকে অচেনা লগইন আছে কি না দেখুন, পাসওয়ার্ড বদলান এবং হারানো ফোনের সেশন বন্ধ করে দিন। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ আর ইনস্টাগ্রামেও একইভাবে অন্য ডিভাইস থেকে ঢুকে পুরনো সেশন লগআউট করুন। সবচেয়ে বেশি নজর দিন ইমেইলের দিকে, কারণ বেশিরভাগ অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড রিসেট লিংক ইমেইলেই আসে।

ধাপ ৮: মোবাইল হারিয়ে গেলে জিডি করার নিয়ম

এবার আসি আইনি দিকে। ফোন হারালে বা চুরি হলে জিডি করা খুব জরুরি, কারণ এই জিডির কপি দিয়েই পরে সিম তোলা, আইএমইআই ব্লক করা এবং ঝামেলা হলে নিজেকে রক্ষা করা যায়। ধরুন আপনার হারানো ফোন দিয়ে কেউ প্রতারণা করল। তখন আগে করা জিডি প্রমাণ করে যে ফোনটা তখন আর আপনার হাতে ছিল না।

জিডি করার দুটো উপায় আছে। প্রথমটা আগের মতোই নিকটস্থ থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করা। সঙ্গে নেবেন ফোনের মডেল, রং, আইএমইআই নম্বর, সিম নম্বর, আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কোথায় কখন ফোন হারিয়েছে তার বিবরণ। দ্বিতীয় উপায় অনলাইন জিডি। বাংলাদেশ পুলিশের gd.police.gov.bd ওয়েবসাইট বা অনলাইন জিডি মোবাইল অ্যাপ দিয়ে ঘরে বসেই জিডি করা যায়। প্রথমবার রেজিস্ট্রেশন করতে হয়, আর লাগে আপনার এনআইডি নম্বর, একটা সচল মোবাইল নম্বর এবং একটা লাইভ ছবি। জিডি জমা হলে পুলিশ আপনাকে জিডি নম্বর ও তদন্তকারী কর্মকর্তার তথ্যসহ একটা ডিজিটাল কপি পাঠায়, যা অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোডও করা যায়।

মোবাইল হারানোর জিডি করতে কত টাকা লাগে, এই প্রশ্নও অনেকে করেন। আমার জানা মতে জিডি করতে সরকারি কোনো ফি নেই। থানার বাইরে কেউ জিডির আবেদন টাইপ করে দিলে সেই সার্ভিসের জন্য তারা নিজেদের খরচ নিতে পারে, কিন্তু সেটা সরকারি ফি না। থানায় কেউ জিডি নেওয়ার নামে টাকা চাইলে বিনয়ের সঙ্গে না বলুন এবং প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানান। আরেকটা তথ্য: কিছু পুলিশ ইউনিটে হারানো ফোন উদ্ধারে আলাদা সাইবার ও কল ডিটেইল রেকর্ড বিশ্লেষণ শাখা কাজ করে। ঢাকার একটি সংবাদে দেখেছি, সেখানে আইএমইআই উল্লেখ করা জিডির কপি আলাদা ঠিকানায় পাঠালে ফোন উদ্ধারে সুবিধা হয়। তাই জিডি করার সময় আপনার এলাকার থানায় জিজ্ঞেস করে নেবেন, এমন কোনো ব্যবস্থা আছে কি না।

ধাপ ৯: আইএমইআই ব্লক করুন, বিটিআরসি ও এনইআইআর পোর্টালের মাধ্যমে

আইএমইআই হলো প্রতিটি ফোনের একটা আলাদা পরিচয় নম্বর, ১৫ ডিজিটের। দুই সিমের ফোনে সাধারণত দুটো থাকে। ফোনের বাক্স, কেনার রসিদ, গুগল ফাইন্ড হাবের সেটিংস বা আগে টুকে রাখা নোটে এটা পাবেন। ফোনের ডায়ালারে *#06# চেপেও এটা দেখা যায়, তবে হারিয়ে যাওয়া ফোনে সেটা তো আর করা যাবে না।

বাংলাদেশে বিটিআরসির ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার, সংক্ষেপে এনইআইআর, ব্যবস্থা দিয়ে ফোনের আইএমইআই যাচাই এবং চুরি বা হারানো ফোন ব্লক করার সুযোগ আছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এনইআইআর পোর্টাল neir.btrc.gov.bd, এর মোবাইল অ্যাপ অথবা মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার সেবাকেন্দ্র থেকে ফোন লক বা আনলক করা যায়। যাদের ইন্টারনেট সংযোগ নেই, তারা ইউএসএসডি চ্যানেল বা অপারেটরের ১২১ নম্বরে ফোন করে সেবা নিতে পারেন। এনইআইআর নিয়ে কিছু জানার থাকলে বিটিআরসির হেল্পডেস্ক নম্বর ১০০ আছে বলেও জানা যায়। ফোনটা ব্লক হলে অন্য কোনো সিম লাগালেও সেটা নেটওয়ার্কে কাজ করবে না, ফলে চোরের কাছে ফোনের দাম অনেক কমে যায়।

একটা কথা পরিষ্কার করে বলি। বিটিআরসি ফোন ব্লক করতে সাহায্য করে, কিন্তু ফোন খুঁজে এনে হাতে তুলে দেওয়ার কাজটা মূলত পুলিশের। আর ব্লকের আবেদনের খুঁটিনাটি, মানে কোন কাগজ লাগবে বা কোন ধাপ আগে, সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। তাই আবেদনের আগে অফিসিয়াল পোর্টালে একবার দেখে নিন বা অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে জেনে নিন। ফোন ফেরত পেলে একই জায়গা থেকে আনলকও করতে পারবেন।

ধাপ ১০: ডেটা কখন মুছবেন আর প্রতারণা থেকে কীভাবে বাঁচবেন

ডেটা মুছে ফেলা প্রথম ধাপ না হওয়াই ভালো। আগে লক আর লোকেশন খুঁজে দেখুন। ফোন ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় না থাকলে এবং ভেতরে সংবেদনশীল তথ্য থাকলে তখন রিমোট ইরেজ করুন। তার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন, গুরুত্বপূর্ণ ছবি আর ফাইলের ক্লাউড ব্যাকআপ আছে কি না।

আরেকটা সতর্কবার্তা না দিলেই নয়। হারানোর কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন পর কেউ ফোন করে বলতে পারে, আপনার ফোন পেয়েছি, তারপর ওটিপি, পিন বা পাসওয়ার্ড চাইতে পারে। কখনো আবার মেসেজে ভুয়া গুগল বা অ্যাপল লগইন পেজের লিংক পাঠায়। ফোন ফেরত দিতে কারও আপনার ওটিপি বা পাসওয়ার্ড লাগে না। এমন কল এলে কেটে দিন এবং পুলিশকে জানান। আর মোবাইল চোরকে ধরার উপায় নিয়ে আমার পরামর্শ একটাই: নিজে গিয়ে চোর ধরার চেষ্টা করবেন না। ফাইন্ড হাবের লোকেশন, আইএমইআই আর জিডির কপি পুলিশের হাতে দিন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন।

ফোন হারানোর আগেই যে পাঁচটা কাজ করে রাখবেন

প্রস্তুতি আগে থেকে রাখলে ফোন হারালে বা চুরি হলে কী কী করবেন, সেই প্রশ্নের অর্ধেক সমস্যা আগেই মিটে যায়। প্রথমে ফোনে ১২৩৪ ধরনের সহজ পিন না দিয়ে শক্তিশালী পিন বা পাসওয়ার্ড দিন। দ্বিতীয়ত, অ্যান্ড্রয়েডে ফাইন্ড হাব আর আইফোনে ফাইন্ড মাই চালু আছে কি না দেখে নিন। তৃতীয়ত, জিমেইল, ফেসবুক ও ব্যাংকিং অ্যাপে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করুন। চতুর্থত, আইএমইআই নম্বর একটা খাতায় বা অন্য কোথাও লিখে রাখুন, আর ফোন কেনার রসিদ সংরক্ষণ করুন। পঞ্চমত, ছবি আর দরকারি ফাইলের নিয়মিত ক্লাউড ব্যাকআপ রাখুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

ফোন হারিয়ে গেলে কি করে খুঁজে পাবো?

অন্য ডিভাইস থেকে android.com/find বা icloud.com/find এ গিয়ে নিজের গুগল বা অ্যাপল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করুন। সেখান থেকে ফোনের অবস্থান দেখুন, শব্দ বাজান এবং ফোন লক করুন। একই সঙ্গে জিডি করে পুলিশকে আইএমইআই নম্বর জানান।

মোবাইল চুরি হলে কী করবেন?

প্রথমে ফোন লক ও লোকেশন দেখার চেষ্টা করুন, তারপর সিম ব্লক করুন, মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করুন, গুগল বা অ্যাপল আইডির পাসওয়ার্ড বদলান, থানায় বা অনলাইনে জিডি করুন এবং আইএমইআই ব্লকের ব্যবস্থা নিন।

মোবাইল হারানোর জিডি করতে কত টাকা লাগে?

আমার জানা মতে জিডি করার জন্য সরকারি কোনো ফি নেই। থানা বা অনলাইন জিডি, দুই ক্ষেত্রেই এই নিয়ম। কেউ টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন।

আমি গুগলে আমার ডিভাইস খুঁজে পাই কিভাবে?

অন্য ফোন বা কম্পিউটারে android.com/find ঠিকানায় যান, যে জিমেইল হারানো ফোনে লগইন করা ছিল সেটা দিয়ে সাইন ইন করুন এবং তালিকা থেকে ফোনটি বেছে নিন। এটা কাজ করার জন্য ফোনে আগে থেকেই ফাইন্ড হাব চালু থাকা এবং লোকেশন অন থাকা দরকার।

শেষ কথা

ফোন হারালে বা চুরি হলে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা সাধারণত ফোনের দামে হয় না, হয় ভেতরের তথ্য আর অ্যাকাউন্টগুলোতে। তাই প্রথম আধ ঘণ্টায় ফোন লক, সিম ব্লক, ব্যাংকিং সুরক্ষা আর পাসওয়ার্ড বদল করে ফেলাটাই আমার মতে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তারপর শান্ত মাথায় জিডি, আইএমইআই ব্লক আর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের কাজগুলো সারুন। রাফির সেই ঘটনার পর আমি নিজের ফোনে ফাইন্ড হাব চালু রেখেছি, আইএমইআই নম্বর লিখে রেখেছি আর সব দরকারি অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর দিয়েছি। আপনিও আজই কাজটা সেরে ফেলুন, কারণ বিপদ বলে কয়ে আসে না। তো ভাইয়া আজকের মত বিদাই নিচ্ছি আর আসা করছি আজকের বিষয়টি আপনার হারানো ফোন উদ্ধার করতে সাহায্য করছে। আর কোনও প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করুন। 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক টুল আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url