বিকাশে ভুল নাম্বারে টাকা চলে গেলে কী করবেন? ফেরতের উপায়

ভুমিকাঃ   কল্পনা করুন, মাস শেষে বাড়ি-ভাড়ার টাকা পাঠাতে গিয়ে আপনি তাড়াহুড়োয় বিকাশ অ্যাপ খুলেছেন, এরপরে বাড়িওয়ালার নম্বরটি সেভ করা ছিল না, তাই হাতে টাইপ করেছেন আপনি । পিন দিয়ে টাকা পাঠানোর শেষ করার পর কনফার্মেশন এসএমএস আসলো । সেটি পড়তে গিয়ে চোখ কপালে উঠে  গেল। একটি সংখ্যা ভুল, অনেক টাকার বাসা ভাড়া ছিল, বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল, হাত ঠান্ডা হয়ে আসছে, আর মাথায় একসঙ্গে ঘুরতে লাগল কয়েকটি প্রশ্ন। টাকাটা কার কাছে গেল? তাঁকে ফোন করব? টাকা কি আর ব্যাক দিবে সেই মানুষটি?

বিকাশে ভুল নাম্বারে টাকা চলে গেলে কী করবেন


এই অভিজ্ঞতা কাল্পনিক হলেও খুব পরিচিত। দৈনন্দিন লেনদেনে একটি অঙ্কের হেরফের যে কারও হতে পারে। ভুল নম্বরে টাকা চলে যাওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টার সিদ্ধান্তই অনেক সময় ঠিক করে দেয় ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা কেমন হবে। আমি রাইহান আছি এই ব্লগ এ আপনাদের সাথে। চলুন ভাইয়া পড়া শুরু করি। এই লেখায় ধাপে ধাপে দেখব, বিকাশে ভুল নাম্বারে টাকা চলে গেলে কী করবেন, কীভাবে অভিযোগ জানাবেন, কী কী করা উচিত নয় এবং বাস্তবে কতটা আশা করা যায় টাকা ফেরত পাওয়ার।

ভুল নম্বরে টাকা পাঠানোর পর প্রথম কাজ

প্রথমেই শান্ত হোন। আতঙ্কের মধ্যে মানুষ প্রায়ই তাড়াহুড়ো করে এমন কাজ করে ফেলে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে। প্রথমে দেখুন কোন ধরনের ভুল হয়েছে। নম্বর ভুল হয়েছে, নাকি টাকার অঙ্ক ভুল? নম্বর ভুল হলে সেটি কোনো সক্রিয় বিকাশ অ্যাকাউন্টের নম্বর ছিল, নাকি এমন নম্বর, যেখানে বিকাশ অ্যাকাউন্টই নেই? উত্তরটির ওপর নির্ভর করে পরের পদক্ষেপ। অনেক সময় এমন হয় যে আমরা ভুল করে যেই নম্বার এ টাকা সেন্ড করি সেইটাতে আসলে কোনও বিকাশ অ্যাকাউন্ট এ ছিল না। 

এরপর বিকাশ অ্যাপের লেনদেনের তালিকা খুলে বিষয়টি নিশ্চিত হোন। যে নম্বরে টাকা গেছে, সেটি আপনার কাঙ্ক্ষিত নম্বর থেকে ঠিক কোথায় আলাদা, তা মিলিয়ে নিন। এই কাজটি এক মিনিটেই হয়ে যায়, কিন্তু অভিযোগ করার সময় এটি আপনার বক্তব্যকে স্পষ্ট করে।

লেনদেনের প্রমাণ গুছিয়ে রাখুন

অভিযোগ জানানোর আগেই প্রমাণ সংরক্ষণ করে ফেলুন। বিকাশ থেকে আসা লেনদেন নিশ্চিতকরণের এসএমএসটি মুছবেন না। সম্ভব হলে সেটির স্ক্রিনশট রাখুন এবং অ্যাপের লেনদেনের বিবরণের স্ক্রিনশটও নিন। এখানে অন্তত এই তথ্যগুলো যেন স্পষ্ট দেখা যায়: লেনদেনের তারিখ ও সময়, আপনার নম্বর, প্রাপকের নম্বর, টাকার পরিমাণ এবং ট্রানজ্যাকশন আইডি (TrxID) ইত্যাদি।


বিকাশে ভুল নাম্বারে টাকা চলে গেলে কী করবেন

প্রমাণ গুছিয়ে রাখার একটি সহজ উপায় হলো, একটি আলাদা নোটে বা কাগজে ঘটনার ক্রম লিখে ফেলা। কখন টাকা পাঠিয়েছিলেন, কখন ভুল বুঝলেন, কখন কোথায় অভিযোগ করলেন, কার সঙ্গে কথা হলো এবং কী নির্দেশনা পেলেন। কয়েক দিন পর স্মৃতির ওপর ভরসা করার চেয়ে এই নোট অনেক নির্ভরযোগ্য। 

প্রাপকের নম্বরে বিকাশ অ্যাকাউন্ট না থাকলে

যে নম্বরে বিকাশ অ্যাকাউন্টই খোলা হয়নি, সেখানে টাকা পাঠালে সেটি সরাসরি কারও হাতে পৌঁছায় না। বিকাশের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, নন-বিকাশ নম্বরে পাঠানো টাকা প্রাপক ওই নম্বরে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুললে পেয়ে যান। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে আপনার সুযোগ আছে। 

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপের "সেন্ড মানি" অংশে গিয়ে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের পাশে "নন-বিকাশ" চিহ্ন দেখা গেলে সেখানে ট্যাপ করে "ক্যানসেল" বেছে নেওয়া যায়। নিশ্চিত করলে টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে ফিরে আসে। এই সুবিধা শুধু নন-বিকাশ নম্বরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং সব লেনদেনে ক্যানসেলের অপশন দেখা নাও যেতে পারে। অপশন না থাকলে বা অ্যাপে অবস্থা স্পষ্ট না হলে দেরি না করে বিকাশের সহায়তা চ্যানেলে জানান বিষয়টি। ৭২ ঘণ্টা পার হওয়ার পর লেনদেনের অবস্থা কী হয়, তার নির্দিষ্ট সময়সীমা বিকাশের প্রকাশিত তথ্যে আমরা স্পষ্টভাবে পাইনি। তাই অ্যাপের স্ট্যাটাস দেখা এবং হেল্পলাইনে নিশ্চিত হওয়াই নিরাপদ।

প্রাপকের একটিভ বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকলে

নম্বরটি যদি কোনো সক্রিয় (একটিভ) বিকাশ অ্যাকাউন্টের হয়, তাহলে টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে গেছে। সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, এ অবস্থায় সাধারণত অ্যাপ থেকে নিজে লেনদেন বাতিল করা যায় না। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো যত দ্রুত সম্ভব বিকাশকে জানানো।

এখানে একটি বাস্তবতা জানা দরকার। বিকাশের FAQ অনুযায়ী, ভুল লেনদেনের দায়িত্ব প্রেরকের, আর যিনি টাকা পেয়েছেন তাঁর অনুমতি বা আদালতের নির্দেশনা ছাড়া টাকা ফেরত দেওয়ার এখতিয়ার বিকাশের নেই। সহজ ভাষায়, বিকাশ নিজের উদ্যোগে অন্যের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে আপনাকে ফিরিয়ে দিতে পারে না। তাই অভিযোগ করলে বিকাশ বড়জোর বিষয়টি পরীক্ষা করে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। প্রাপক সম্মতি দিলে টাকা ফেরত আসা সম্ভব। না দিলে প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে যায়। 

বিকাশের অফিসিয়াল চ্যানেলে অভিযোগ করবেন যেভাবে

বিকাশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের "ভুল নাম্বারে লেনদেন ফেরত" পাতায় বলা আছে, বিকাশ অ্যাকাউন্ট নাম্বার ও লেনদেনের তথ্যসহ সরাসরি গ্রাহক সেবা প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করতে হবে। যোগাযোগের মাধ্যমগুলো হলো: হেল্পলাইন ১৬২৪৭ বা ০২-৫৫৬৬৩০০১, লাইভ চ্যাট, বিকাশের ফেসবুক পেজ এবং ইমেইল। এছাড়া নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারেও যাওয়া যায়।

বিকাশে ভুল নাম্বারে টাকা চলে গেলে কী করবেন

কল করার আগে হাতের কাছে এই তথ্যগুলো রাখুন: আপনার বিকাশ নম্বর, প্রাপকের নম্বর, লেনদেনের তারিখ-সময়, টাকার পরিমাণ ও ট্রানজ্যাকশন আইডি। কাস্টমার কেয়ার আপনার পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কিছু প্রশ্ন করতে পারে। এগুলোর উত্তর নিজের জানা তথ্য থেকে দিন, কিন্তু পিন বা ওটিপি কখনোই বলবেন না। বিকাশের কোনো প্রতিনিধিই পিন বা ওটিপি চান না।

অভিযোগের শেষে অবশ্যই জিজ্ঞেস করুন অভিযোগের কোনো রেফারেন্স বা টিকেট নম্বর দেওয়া হচ্ছে কি না। দেওয়া হলে সেটি এবং কল করার সময় লিখে রাখুন। যদি লাইভ চ্যাট বা ইমেইলে অভিযোগ করেন, সেই কথোপকথনের স্ক্রিনশট বা ইমেইলের কপি সংরক্ষণ করুন।

প্রাপককে সরাসরি ফোন করা কি ঠিক?

অনেকেই ভাবেন, যাঁর নম্বরে টাকা গেছে তাঁকে ফোন করে অনুরোধ করলেই তো হয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি কাজও করে, কারণ সৎ মানুষ ভুল টাকা ফেরত দিতে চান। কিন্তু ঝুঁকিও আছে। প্রাপক অপরিচিত হলে আপনার ফোন পেয়ে তিনি টাকা তুলে ফেলতে পারেন, বা নিজের টাকা বলে দাবি করতে পারেন। তাই অফিসিয়াল অভিযোগ আগে করে রাখাই বেশি নিরাপদ।

প্রাপক যদি আপনার পরিচিত কেউ হন, যেমন ভুল করে অন্য কোনো আত্মীয়ের নম্বরে গেছে, তাহলে বিনয়ের সঙ্গে ঘটনাটি জানিয়ে ফেরত দিতে অনুরোধ করা যায়। সে ক্ষেত্রেও টাকা কীভাবে ফেরত নেবেন, তা বিকাশের মাধ্যমে বা প্রাপকের নিজের অ্যাপ থেকে সরাসরি আপনার নম্বরে সেন্ড মানির মাধ্যমে হওয়াই ভালো। হুমকি দেওয়া, চাপ দেওয়া বা বারবার বিরক্ত করা কোনোভাবেই উচিত নয়। এতে সম্পর্ক নষ্ট হয়, আর আপনিই আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।

যে ভুলগুলো একেবারেই করবেন না

ভুল নম্বরে টাকা যাওয়ার পর কয়েকটি আচরণ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে। প্রথমত, কোনো অপরিচিতের কাছে নিজের পিন, ওটিপি বা অ্যাকাউন্টের তথ্য দেবেন না, এমনকি সে নিজেকে বিকাশের লোক বলে দাবি করলেও। দ্বিতীয়ত, "টাকা ফেরত করে দেব" বলে কেউ আগাম কিছু টাকা বা ফি চাইলে সতর্ক হোন। বিকাশ নিজেও জানিয়েছে, কেউ নিজেকে এজেন্ট পরিচয় দিয়ে ভুলে টাকা পাঠানোর কথা বললে কল কেটে দিতে হবে। তৃতীয়ত, ফেসবুক গ্রুপ বা অজানা নম্বরে "টাকা উদ্ধারকারী" খুঁজবেন না। চতুর্থত, ভুল নম্বরে কিছু টাকা আবার পাঠিয়ে "পরীক্ষা" করার চেষ্টা করবেন না। এতে ক্ষতি দ্বিগুণ হয়। পঞ্চমত, অভিযোগ না করে শুধু অপেক্ষা করবেন না।

টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা যেসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে

ভুল নম্বরে টাকা গেলে ফেরত পাওয়া যাবে কি না, তা কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। কোনো একটি উত্তরই সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

প্রথম বিষয় হলো প্রাপকের নম্বরটি বিকাশে নিবন্ধিত কি না। নিবন্ধিত না হলে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অ্যাকাউন্ট না খুললে ফেরত পাওয়া তুলনামূলক সহজ, যেমন আগে আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় বিষয় হলো প্রাপক টাকা তুলে নিয়েছেন কি না। টাকা অ্যাকাউন্টে থাকলে বিকাশ অনুরোধ জানানোর সুযোগ পায়। কিন্তু টাকা খরচ বা ক্যাশ আউট হয়ে গেলে প্রাপকের সদিচ্ছা ছাড়া ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত অভিযোগ করার ওপর এত জোর দেওয়া হয়।

তৃতীয় বিষয় হলো প্রাপকের সহযোগিতা। যেহেতু প্রাপকের সম্মতি বা আদালতের নির্দেশ ছাড়া বিকাশের ফেরত দেওয়ার এখতিয়ার নেই, সেহেতু প্রাপক ফেরত দিতে রাজি কি না, তা বড় ভূমিকা রাখে।

চতুর্থ বিষয় হলো প্রাপকের নম্বর বন্ধ আছে কি না। নম্বর বন্ধ থাকলে প্রাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়। এ ক্ষেত্রে কী হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায় না। বিকাশের কাস্টমার কেয়ারকে পরিস্থিতিটি পরিষ্কার জানান এবং তাঁরা কী নির্দেশনা দেন, তা অনুসরণ করুন।

পঞ্চম বিষয় হলো আপনার প্রমাণ কতটা স্পষ্ট। লেনদেনের তথ্য ও যোগাযোগের নথি গুছিয়ে থাকলে অভিযোগ বোঝানো সহজ হয়।

সবশেষে একটি কথা মনে রাখা দরকার: টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কেউ যদি "শতভাগ ফেরত পাবেন" বলে দাবি করে, তার কথা বিশ্বাস করবেন না।

প্রাপক টাকা ফেরত দিতে না চাইলে

প্রাপক যদি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন, তাহলে পরবর্তী পথগুলো কিছুটা কঠিন হলেও বন্ধ নয়। কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ রকম ক্ষেত্রে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে সেই কপি নিয়ে বিকাশের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। জিডি করতে গেলে ট্রানজ্যাকশন আইডি, তারিখ, সময় ও টাকার পরিমাণ সঙ্গে রাখুন। তবে জিডি বাধ্যতামূলক কি না কিংবা এর পর কী প্রক্রিয়া হবে, তা বিকাশের অফিসিয়াল পাতায় স্পষ্ট করে লেখা পাইনি। তাই কাস্টমার কেয়ারকে সরাসরি জিজ্ঞেস করে নেওয়াই ভালো।

যেহেতু বিকাশের নীতি অনুযায়ী আদালতের নির্দেশও একটি পথ, তাই টাকার অঙ্ক বড় হলে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যুক্তিসংগত। কোন আইনের কোন ধারায় কীভাবে মামলা বা আইনি নোটিশ দেওয়া যায়, তা পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হয়। এখানে সাধারণ ধারণা দেওয়া সম্ভব, আইনি পরামর্শ নয়। তাই নিজের প্রমাণ গুছিয়ে নিয়ে যোগ্য আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

অভিযোগের পর কীভাবে অনুসরণ করবেন

অভিযোগ করেই বসে থাকবেন না। রেফারেন্স নম্বর থাকলে কয়েক দিন পর সেটি দিয়ে অবস্থা জানতে চান। নতুন কোনো তথ্য পেলে, যেমন প্রাপক আপনাকে নিজে যোগাযোগ করলে, তা বিকাশকে জানান। প্রতিবার যোগাযোগের তারিখ, সময় ও পাওয়া নির্দেশনা নোটে লিখে রাখুন। বিকাশ কত দিনে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সময় আমরা অফিসিয়াল সূত্রে নিশ্চিত করতে পারিনি, তাই কারও দেওয়া সময়ের প্রতিশ্রুতিকে চূড়ান্ত ধরে নেবেন না।

প্রতারণার আশঙ্কা থাকলে

কখনও কখনও ভুল নম্বরে টাকা পাঠানো আসলে ভুল নয়, প্রতারণার ফল। প্রতারকরা পরিচিত কারও পরিচয় নিয়ে বা তাঁদের ইমো, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করে নির্দিষ্ট বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে বলতে পারে। এমন সন্দেহ হলে দ্রুত ১৬২৪৭ নম্বরে জানান, ঘটনার সময় ও কীভাবে প্রতারিত হয়েছেন তা বিস্তারিত বলুন এবং নিজের পিন বদলে ফেলুন। নতুন পিন কাউকে বলবেন না। প্রয়োজনে পুলিশকেও জানান।

ভবিষ্যতে ভুল এড়াবেন যেভাবে

ভুল নম্বরে টাকা পাঠানোর ঝুঁকি কমাতে বিকাশ অ্যাপে সেভ না করা নম্বরে সেন্ড মানির সময় এখন একটি সতর্কবার্তা আসে। বার্তাটি নম্বরটি সঠিক কি না তা আবার দেখে নিতে বলে। এটি সামান্য মনে হলেও কার্যকর, তাই বার্তাটি না পড়ে এড়িয়ে যাবেন না। 

আরও কিছু সহজ অভ্যাস কাজে দেবে। নতুন নম্বরে টাকা পাঠানোর আগে প্রাপকের সঙ্গে কথা বলে নম্বর নিশ্চিত করুন। নম্বর টাইপ করার পর কয়েকবার মিলিয়ে দেখুন এবং পিন দেওয়ার আগে পর্দায় দেখানো নাম ও টাকার অঙ্ক যাচাই করুন। বড় অঙ্কের ক্ষেত্রে আগে সামান্য পরিমাণ টাকা পাঠিয়ে প্রাপককে নিশ্চিত করতে বলা যায়, তবে এটি আপনার নিজের বিবেচনার বিষয়। লেনদেনের পর এসএমএস এসেছে কি না দেখুন, কারণ বিকাশের নিরাপত্তা পরামর্শেও লেনদেনের পর এসএমএস পাওয়া ও ব্যালেন্স মিলিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

বিকাশে ভুল নম্বরে টাকা পাঠালে কি টাকা ফেরত পাওয়া যায়?

কিছু ক্ষেত্রে যায়, কিন্তু নিশ্চিত নয়। নন-বিকাশ নম্বর হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্যানসেলের সুযোগ থাকতে পারে। একটিভ অ্যাকাউন্ট হলে প্রাপকের সম্মতি বা আদালতের নির্দেশ লাগতে পারে।

প্রাপক টাকা তুলে ফেললে কী হবে?
ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তবু অভিযোগ করুন, কারণ তখন প্রাপকের সঙ্গে যোগাযোগ ও আইনি পথ ছাড়া কার্যকর বিকল্প কম।

ভুল নম্বরটি বন্ধ থাকলে কী করব?

দেরি না করে ১৬২৪৭ বা লাইভ চ্যাটে বিস্তারিত জানান। এ ক্ষেত্রে কী হবে তা নির্দিষ্টভাবে বলা যায় না, বিকাশ যে নির্দেশনা দেয়, সেটি অনুসরণ করুন।

কত দ্রুত অভিযোগ করা উচিত?
যত দ্রুত সম্ভব, সম্ভব হলে একই ঘণ্টায়। সময় যত যায়, টাকা সরে যাওয়ার ঝুঁকি তত বাড়ে।

অভিযোগের সময় কী কী তথ্য লাগবে?

আপনার ও প্রাপকের নম্বর, তারিখ-সময়, টাকার অঙ্ক, ট্রানজ্যাকশন আইডি এবং লেনদেনের এসএমএস বা স্ক্রিনশট।

টাকা ফেরত না পেলে পরে কী করব?

রেফারেন্স নম্বর দিয়ে ফলো-আপ করুন, প্রয়োজনে থানায় জিডি করুন এবং বড় অঙ্কের ক্ষেত্রে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

বিকাশের অফিসিয়াল হেল্পলাইন নম্বর কত?
১৬২৪৭ বা ০২-৫৫৬৬৩০০১, যা বিকাশের অফিসিয়াল যোগাযোগ পাতায় দেওয়া আছে। সন্দেহ হলে বিকাশের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকেই নম্বর মিলিয়ে নিন।

উপসংহার

ভুল নম্বরে বিকাশে টাকা চলে গেলে আতঙ্ক সবচেয়ে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করবেন,, কিন্তু সেই আতঙ্ক থেকে তাড়াহুড়ো করা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। প্রথমে লেনদেনের এসএমএস ও ট্রানজ্যাকশন আইডি সংরক্ষণ করুন, তারপর নম্বরটি বিকাশ-নিবন্ধিত কি না দেখুন, এরপর বিকাশের অফিসিয়াল চ্যানেলে দ্রুত অভিযোগ জানান। পিন বা ওটিপি কাউকে দেবেন না এবং টাকা ফেরতের নামে কোনো অপরিচিতের ফাঁদে পা দেবেন না। টাকা ফেরত পাওয়া আপনার দ্রুততা, প্রমাণ, প্রাপকের সহযোগিতা ও বিকাশের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে, তাই কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবু শান্ত থেকে সঠিক ধাপগুলো অনুসরণ করলে আপনার সম্ভাবনা সবচেয়ে ভালো থাকে। আজের এই আর্টিকেল এ আমি আপনাদের ভাই চেষ্টা করেছি সকল বিষয় গুলি উল্লেখ করার আর এইটা আপনি আপনার কাজে লাগছে আসা করি, আজকের মত বিদাই নিচ্ছি ভাইয়া, আপনি আপনার ও আপনার পরিবার এর খেয়াল রাখবেন। আজকের মত যাই তাহলে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টেক টুল আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url