POCO X8s এর দাম কত বাংলাদেশে? সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন ও রিভিউ
ভুমিকাঃ
আমরা সাধারণত কয়েকটি বিষয় বেশি দেখি। ফোনের ক্যামেরা কেমন, গেম খেলতে সমস্যা হবে কি না, ব্যাটারি কতক্ষণ চলবে এবং দাম অনুযায়ী ফোনটি কেনা ঠিক হবে কি না। বিশেষ করে যারা একসঙ্গে ভালো ক্যামেরা, দ্রুত প্রসেসর এবং বড় ব্যাটারি চান, তাদের জন্য সঠিক ফোন বেছে নেওয়া একটু কঠিন হয়ে যায়। তাই আজ আমরা কথা বলব POCO X8s নিয়ে। আর নিচে আরও বিস্তারিত উল্লেখ করলাম, আসা করি ভাল লাগবে আপনাদের। আর চাইলে এই ব্লগটি আপনাদের বন্ধুদের সাথে শিয়ার করতে পারেন।
POCO X8s ফোনটিতে রয়েছে Snapdragon 7 Gen 4 প্রসেসর, ৬.৩৫ ইঞ্চির AMOLED ডিসপ্লে, পেছনে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, আলাদা টেলিফটো ক্যামেরা এবং ৬,৩৩০mAh ব্যাটারি। এর সঙ্গে রয়েছে ১০০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং, 5G নেটওয়ার্ক এবং IP68 ধুলা ও পানি প্রতিরোধের সুবিধা। সব মিলিয়ে ফোনটির ফিচার বেশ আকর্ষণীয়। কিন্তু এই ফোনটি আপনার জন্য কতটা ভালো হবে, বাংলাদেশে এর দাম কত এবং কেনার আগে কোন বিষয়গুলো জানা দরকার? চলুন, সবকিছু বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
POCO X8s এর দাম বাংলাদেশে কত?
POCO X8s কেনার আগে এর দাম সম্পর্কে জানা সবচেয়ে জরুরি। নির্মাতার আন্তর্জাতিক বাজারের প্রাথমিক অফার অনুযায়ী, ফোনটির ৮GB RAM ও ২৫৬GB স্টোরেজ সংস্করণের দাম ৩৯৯ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, ১২GB RAM ও ৫১২GB স্টোরেজ সংস্করণের প্রাথমিক অফার মূল্য ৪৯৯ মার্কিন ডলার। তবে এই দাম আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশের অফিসিয়াল দাম হিসেবে নয়।
বাংলাদেশের বাজারে ফোনটির সম্ভাব্য দাম প্রায় ৬০,০০০ টাকা হিসেবে একটি স্থানীয় প্রযুক্তিপণ্যের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই দামকে নিশ্চিত অফিসিয়াল মূল্য বলা যাবে না। ফোনটি কেনার আগে স্থানীয় দোকানে দাম, বিক্রির অবস্থা এবং ওয়ারেন্টির তথ্য যাচাই করে নেওয়া ভালো। আমদানি খরচ, কর ও বিক্রেতার ওপর নির্ভর করে দাম কমবেশি হতে পারে।
আপনি যদি POCO X8s price in Bangladesh লিখে গুগলে সার্চ করেন, তাহলে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এর দাম দেখতে পারেন। কিন্তু শুধু কম দাম দেখেই ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেবেন না। ফোনটি অফিসিয়াল নাকি আনঅফিশিয়াল, সঙ্গে চার্জার পাওয়া যাবে কি না এবং বিক্রেতা কত দিনের ওয়ারেন্টি দিচ্ছেন, সেগুলোও জেনে নিন। এতে পরে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কা কমবে।
POCO X8s-এর ডিজাইন ও ওজন
অনেকেই এমন ফোন পছন্দ করেন, যেটি দেখতে সুন্দর এবং হাতে ধরে ব্যবহার করতেও আরামদায়ক। POCO X8s-এর উচ্চতা ১৫১.১ মিলিমিটার, প্রস্থ ৭১.৮ মিলিমিটার এবং পুরুত্ব ৮.০৬ মিলিমিটার। ফোনটির ওজন ১৮৭ গ্রাম। এই আকারের কারণে বড় ফোনের তুলনায় এটি হাতে ধরে ব্যবহার করা কিছু মানুষের কাছে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যকর মনে হতে পারে।
বর্তমানে বাজারে অনেক স্মার্টফোনের ডিসপ্লে বেশ বড়। তাই যারা এক হাতে ফোন ব্যবহার করতে চান বা পকেটে সহজে বহন করার মতো ফোন খোঁজেন, তাদের কাছে POCO X8s-এর আকার ভালো লাগতে পারে। তবে হাতে ধরে কেমন লাগবে, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
ফোনটির সামনে রয়েছে POCO Shield Glass। এটি ডিসপ্লেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। তবে যেকোনো কাচের মতো এটিও সব ধরনের আঘাত বা পড়ে যাওয়া থেকে ফোনকে নিশ্চিতভাবে রক্ষা করতে পারে না। তাই ফোনটি কিনলে একটি ভালো কভার ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
POCO X8s-এর ডিসপ্লে কেমন?
POCO X8s-এর অন্যতম আকর্ষণ হলো এর ৬.৩৫ ইঞ্চির CrystalRes AMOLED ডিসপ্লে। এর রেজল্যুশন ২৬৫৬ × ১২২০ পিক্সেল এবং প্রতি ইঞ্চিতে ৪৬০ পিক্সেল রয়েছে। সহজভাবে বললে, ফোনের স্ক্রিনে লেখা, ছবি ও ভিডিও পরিষ্কারভাবে দেখার জন্য এই রেজল্যুশন যথেষ্ট ভালো হওয়ার কথা।
ফোনটিতে ১Hz থেকে ১২০Hz পর্যন্ত LTPO রিফ্রেশ রেট রয়েছে। আপনি যখন সাধারণ লেখা পড়বেন বা স্থির কোনো পেজ দেখবেন, তখন ডিসপ্লে কম রিফ্রেশ রেটে চলতে পারে। আবার স্ক্রল করা বা সমর্থিত গেম খেলার সময় রিফ্রেশ রেট বাড়তে পারে। এর ফলে ব্যবহার মসৃণ হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে।
POCO-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিসপ্লেটির নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ৩,৫০০ নিট পর্যন্ত হতে পারে। এতে HDR10+ ও Dolby Vision সমর্থনও রয়েছে। ফলে সমর্থিত ভিডিও দেখার সময় উজ্জ্বল অংশ, রং এবং ছবির বিস্তারিত আরও সুন্দরভাবে ফুটে উঠতে পারে। তবে সব ভিডিওতে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না।
ডিসপ্লেতে DC dimming এবং TÜV Rheinland-এর চোখের আরামের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি সনদও রয়েছে। এর মধ্যে কম নীল আলো, স্ক্রিনের ঝিলমিল কমানো এবং দৈনন্দিন ব্যবহারে চোখের আরামের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। তবে এসব সুবিধা থাকলেও দীর্ঘ সময় একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা এড়ানো ভালো।
POCO X8s-এর প্রসেসর ও পারফরম্যান্স
ফোনটি কতটা দ্রুত চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে প্রসেসরের ওপর। POCO X8s-এ Qualcomm Snapdragon 7 Gen 4 প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি। পাশাপাশি ফোনটিতে POCO 3D IceLoop কুলিং ব্যবস্থা রয়েছে, যা ফোনের ভেতরের তাপ বের করে দিতে সাহায্য করে।
এই প্রসেসর দিয়ে ফেসবুক ব্যবহার, ইউটিউবে ভিডিও দেখা, ইন্টারনেট ব্রাউজ করা, অনলাইন ক্লাস করা এবং একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানোর মতো কাজ করা যাবে। ছবি সম্পাদনা করা কিংবা তুলনামূলক ভারী অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি কাজে আসতে পারে। তবে বাস্তবে ফোনটি কতটা দ্রুত চলবে, তা সফটওয়্যার, RAM এবং ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
ফোনটিতে ৮GB ও ১২GB RAM-এর দুটি সংস্করণ রয়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ৮GB RAM যথেষ্ট হতে পারে। অন্যদিকে, যারা অনেক অ্যাপ ব্যবহার করেন, বড় গেম খেলেন কিংবা ফোনে একসঙ্গে অনেক কাজ করেন, তারা ১২GB RAM-এর সংস্করণ বিবেচনা করতে পারেন।
কুলিং ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করার সময় তাপ নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হতে পারে। তবে গরম আবহাওয়ায় ভারী গেম খেলা বা একটানা ভিডিও রেকর্ড করার সময় ফোন গরম হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই গেমিংয়ের জন্য কিনতে চাইলে বাস্তব পরীক্ষায় ফোনটির পারফরম্যান্স কেমন, সেটিও দেখে নেওয়া ভালো।
POCO X8s-এর RAM ও স্টোরেজ
POCO X8s-এ দুটি মেমোরি ও স্টোরেজ সংস্করণ রয়েছে। প্রথমটি ৮GB RAM ও ২৫৬GB স্টোরেজ, আর দ্বিতীয়টি ১২GB RAM ও ৫১২GB স্টোরেজ। এখানে RAM-এর ধরন LPDDR4X এবং স্টোরেজের ধরন UFS 2.2।
সহজভাবে বললে, RAM ফোনে একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানোর ক্ষেত্রে সাহায্য করে। অন্যদিকে, স্টোরেজে ছবি, ভিডিও, গেম, অ্যাপ ও অন্যান্য ফাইল রাখা হয়। আপনি যদি সাধারণভাবে ফোন ব্যবহার করেন, কিছু ছবি তোলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন, তাহলে ২৫৬GB স্টোরেজ আপনার জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত ভিডিও ধারণ করেন, বড় গেম ইনস্টল করেন কিংবা অনেক ফাইল ফোনে রাখতে চান, তাহলে ৫১২GB সংস্করণ বেশি সুবিধা দিতে পারে। অবশ্য বেশি স্টোরেজের জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হবে। তাই নিজের প্রয়োজন বুঝে সংস্করণ নির্বাচন করুন।
আরেকটি বিষয় মনে রাখবেন, ফোনে ৮GB বা ১২GB RAM থাকলেও পুরো মেমোরি সব সময় ব্যবহার করার জন্য পাওয়া যায় না। অপারেটিং সিস্টেম ও আগে থেকে ইনস্টল করা সফটওয়্যার কিছু জায়গা ব্যবহার করে। একইভাবে ২৫৬GB বা ৫১২GB স্টোরেজের সম্পূর্ণ জায়গাও ব্যবহারকারীর জন্য খালি থাকে না।
POCO X8s দিয়ে গেম খেলা যাবে কি?
আপনি যদি PUBG Mobile, Free fire, Call of Duty Mobile বা এ ধরনের গেম খেলতে পছন্দ করেন, তাহলে POCO X8s আপনার আগ্রহের তালিকায় থাকতে পারে। এর Snapdragon 7 Gen 4 প্রসেসর এবং ১২০Hz ডিসপ্লে গেমিংয়ের জন্য ভালো বৈশিষ্ট্য। পাশাপাশি ফোনটিতে নির্বাচিত কিছু গেমে সর্বোচ্চ ৪৮০Hz টাচ স্যাম্পলিং রেট সমর্থিত। এটি চালু করতে Game Turbo-এর নির্দিষ্ট সেটিংস ব্যবহার করতে হয়।
টাচ স্যাম্পলিং রেট বলতে স্ক্রিনে আঙুলের স্পর্শ কত দ্রুত শনাক্ত করা হয়, তা বোঝায়। কিছু সমর্থিত গেমে এটি কাজে লাগতে পারে। তবে ৪৮০Hz টাচ স্যাম্পলিং রেট থাকার অর্থ এই নয় যে সব গেম ৪৮০ FPS-এ চলবে। গেমের ফ্রেম রেট ও টাচ স্যাম্পলিং রেট আলাদা বিষয়।
ফোনটির কুলিং ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় খেলার সময় তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। তবে গেমের গ্রাফিকস সেটিংস, তাপমাত্রা এবং সফটওয়্যার অনুযায়ী পারফরম্যান্স বদলাতে পারে। তাই আপনি যদি প্রতিদিন অনেকক্ষণ গেম খেলেন, তাহলে কেনার আগে নির্ভরযোগ্য গেমিং পরীক্ষা দেখে নিন।
POCO X8s-এর ক্যামেরা কেমন?
POCO X8s-এর পেছনে তিনটি ক্যামেরা রয়েছে। প্রধান ক্যামেরাটি ৫০ মেগাপিক্সেলের এবং এতে Light Fusion 800 সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। ক্যামেরাটিতে f/1.77 অ্যাপারচার ও OIS রয়েছে। সহজভাবে বললে, OIS হাত কাঁপার প্রভাব কমাতে সাহায্য করে, ফলে ছবি তোলা বা ভিডিও করার সময় কিছুটা স্থির ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।
ফোনটির প্রধান ক্যামেরা দিয়ে দিনের আলোতে ছবি তোলা, মানুষের ছবি ধারণ করা এবং বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি তুলে রাখা যাবে। তবে ছবির মান শুধু মেগাপিক্সেলের ওপর নির্ভর করে না। আলো, ক্যামেরার সেন্সর, সফটওয়্যার এবং ছবির বিষয়বস্তুও গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাস্তব ক্যামেরা স্যাম্পল দেখলে এর ছবি সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পাবেন।
দ্বিতীয় ক্যামেরাটি ৫০ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরা, যার সমতুল্য ফোকাল দৈর্ঘ্য ৫৭ মিলিমিটার এবং অ্যাপারচার f/2.2। এতে প্রায় ২.৫ গুণ অপটিক্যাল জুমের সুবিধা রয়েছে। সহজভাবে বললে, দূরের কোনো বিষয়ের ছবি তুলতে বা মানুষের পোর্ট্রেট তুলতে এই ক্যামেরা কাজে আসতে পারে।
তৃতীয় ক্যামেরাটি ৮ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা। আপনি যদি ভ্রমণে গিয়ে পাহাড়, নদী, প্রকৃতি কিংবা বড় কোনো দলগত ছবি তুলতে চান, তাহলে এই ক্যামেরা সুবিধা দিতে পারে। এটি প্রধান ক্যামেরার তুলনায় বেশি বিস্তৃত দৃশ্য এক ফ্রেমে ধরতে সাহায্য করে।
ফোনটিতে HDR, পোর্ট্রেট মোড, ডকুমেন্ট স্ক্যান করার মোড, প্যানোরামা, প্রো মোড, ৫০ মেগাপিক্সেল মোড এবং সুপার ম্যাক্রোর মতো ফিচার রয়েছে। এছাড়া চলন্ত বিষয়ের ছবি তোলা এবং বিষয়ের দিকে ক্যামেরার ফোকাস ধরে রাখার জন্যও বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফলে ছবি তোলার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা মোড ব্যবহার করা যাবে।
POCO X8s দিয়ে ভিডিও রেকর্ডিং
যারা স্মার্টফোন দিয়ে ভিডিও বানান, তাদের জন্য ক্যামেরার ভিডিও সুবিধাও গুরুত্বপূর্ণ। POCO X8s-এর পেছনের ক্যামেরা দিয়ে সর্বোচ্চ 4K রেজল্যুশনে প্রতি সেকেন্ডে ৩০ ফ্রেমে ভিডিও রেকর্ড করা যায়। এছাড়া 1080p রেজল্যুশনে ৩০ বা ৬০ ফ্রেম এবং 720p রেজল্যুশনে ৩০ ফ্রেমে ভিডিও ধারণের সুবিধা রয়েছে।
এছাড়াও এতে রয়েছে স্লো মোশন ভিডিওর জন্য ফোনটিতে 720p রেজল্যুশনে ১২০ বা ২৪০ ফ্রেম এবং 1080p রেজল্যুশনে ১২০ ফ্রেমে রেকর্ডিংয়ের সুবিধা রয়েছে। এছাড়া টাইম-ল্যাপস, ভিডিও টেলিপ্রম্পটার, ShootSteady এবং বিষয়ের দিকে ফোকাস ধরে রাখার মতো ফিচারও রয়েছে। যারা ছোট ভিডিও, ভ্রমণের ভিডিও কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট তৈরি করেন, তাদের জন্য এগুলো কাজে লাগতে পারে।
সামনের ক্যামেরাটি ২০ মেগাপিক্সেলের। এটি দিয়ে সেলফি তোলা, ভিডিও কল করা এবং নিজের ভিডিও রেকর্ড করা যাবে।তার পরেও সামনের ক্যামেরায় 1080p রেজল্যুশনে প্রতি সেকেন্ডে ৩০ বা ৬০ ফ্রেমে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধা রয়েছে। এছাড়া সেলফি পোর্ট্রেট, HDR, ভয়েস শাটার, হাতের তালু দেখিয়ে ছবি তোলা এবং সেলফি টাইমারের মতো ফিচারও রয়েছে।
তবে ভিডিওর প্রকৃত মান বোঝার জন্য দিনের আলো ও কম আলোতে ধারণ করা নমুনা দেখা ভালো। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সময় ফোন গরম হওয়া, স্টোরেজ খরচ এবং ব্যাটারি ব্যবহারের বিষয়গুলোও মাথায় রাখা উচিত।
POCO X8s-এর ব্যাটারি ও ১০০W ফাস্ট চার্জিং
POCO X8s-এর ব্যাটারি ৬,৩৩০mAh। ব্যাটারিটি সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তির। এই ধরনের ব্যাটারির সুবিধা হলো তুলনামূলক ছোট আকারের ফোনেও বেশি ধারণক্ষমতা রাখা সম্ভব হতে পারে। তাই যারা দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করেন, তাদের কাছে এই ব্যাটারি আকর্ষণীয় মনে হতে পারে।
তবে একবার চার্জে ঠিক কত ঘণ্টা ফোন চলবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আপনি যদি বেশি উজ্জ্বলতায় ভিডিও দেখেন, মোবাইল ডেটা ব্যবহার করেন কিংবা গেম খেলেন, তাহলে ব্যাটারি দ্রুত কমতে পারে। অন্যদিকে, হালকা ব্যবহারে তুলনামূলক বেশি সময় চার্জ থাকতে পারে।
ফোনটিতে ১০০ ওয়াট তারযুক্ত HyperCharge রয়েছে। এর অর্থ, উপযুক্ত চার্জিং অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করলে দ্রুত চার্জ দেওয়ার সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে ১০০ ওয়াট হলো অ্যাডাপ্টারের আউটপুট ক্ষমতা; ফোন সব সময় পুরো ১০০ ওয়াট শক্তিতে চার্জ নেবে এমন নয়। চার্জিংয়ের গতি তাপমাত্রা ও অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে।
এছাড়া ফোনটিতে সর্বোচ্চ ২২.৫ ওয়াট তারযুক্ত রিভার্স চার্জিং রয়েছে। অর্থাৎ উপযুক্ত সংযোগ ও সমর্থিত ডিভাইস থাকলে ফোনটি ব্যবহার করে অন্য ডিভাইসেও চার্জ দেওয়া যায়। ভ্রমণ কিংবা জরুরি অবস্থায় এই সুবিধা কাজে লাগতে পারে। তবে চার্জার বক্সে পাওয়া যাবে কি না, সেটি কেনার আগে স্থানীয় বিক্রেতার কাছে নিশ্চিত হয়ে নিন।
POCO X8s-এর সাউন্ড ও বিনোদনের সুবিধা
ফোনে ভিডিও দেখা বা গান শোনার সময় ভালো সাউন্ড থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। POCO X8s-এ স্টেরিও স্পিকার রয়েছে, অর্থাৎ ফোন থেকে দুই দিকের শব্দ পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি Dolby Atmos এবং Hi-Res Audio ও Hi-Res Audio Wireless সার্টিফিকেশন সমর্থন রয়েছে।
এ ধরনের সুবিধা সমর্থিত কনটেন্ট ও উপযুক্ত অডিও ডিভাইসের সঙ্গে ভালো শোনার অভিজ্ঞতা দিতে পারে। ফোনটিতে তিনটি মাইক্রোফোনও রয়েছে, যা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে শব্দ ধারণের কাজে লাগে। তবে কল বা ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সময় শব্দ কতটা পরিষ্কার হবে, তা আশপাশের পরিবেশ ও ব্যবহারের ওপর নির্ভর করবে।
আপনি যদি নিয়মিত ইউটিউব দেখেন, গান শোনেন কিংবা ফোনে সিনেমা দেখেন, তাহলে এই ফিচারগুলো কাজে আসতে পারে। তবে আপনার কাছে সাউন্ড খুব গুরুত্বপূর্ণ হলে কেনার আগে সম্ভব হলে ফোনটির স্পিকার শুনে দেখা ভালো।
POCO X8s-এর নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা
POCO X8s-এ আলট্রাসনিক ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রয়েছে। এর মাধ্যমে স্ক্রিনে আঙুল রেখে ফোন আনলক করা যায়। পাশাপাশি AI Face Unlock সুবিধাও রয়েছে, যার মাধ্যমে মুখ শনাক্ত করে ফোন খোলা সম্ভব। তবে নিরাপত্তার প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তিশালী স্ক্রিন লক ব্যবহার করা ভালো।
ফোনটিতে ইনফ্রারেড ব্লাস্টারও রয়েছে। সমর্থিত যন্ত্রের ক্ষেত্রে এটি রিমোট কন্ট্রোলের মতো ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া অ্যাক্সেলেরোমিটার, জাইরোস্কোপ, কম্পাস, প্রক্সিমিটি সেন্সর, আলো শনাক্ত করার সেন্সর এবং X-axis লিনিয়ার ভাইব্রেশন মোটরের মতো সুবিধাও রয়েছে।
এসব ফিচারের সবগুলো প্রতিদিন কাজে না লাগলেও বিভিন্ন অ্যাপ ও ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে জাইরোস্কোপ গেমের নড়াচড়া শনাক্ত করার মতো কাজে সাহায্য করতে পারে, আর ইনফ্রারেড ব্লাস্টার সমর্থিত যন্ত্র নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগে।
POCO X8s-এর 5G, Wi-Fi ও কানেক্টিভিটি
POCO X8s-এ 5G, 4G, 3G ও 2G নেটওয়ার্ক সমর্থন রয়েছে। এতে দুটি ন্যানো সিম ব্যবহার করা যায়। নির্দিষ্ট সংস্করণে একটি ন্যানো সিমের সঙ্গে eSIM কিংবা দুটি eSIM ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে। তবে eSIM সব দেশ ও অপারেটরে পাওয়া যায় না, তাই বাংলাদেশে ব্যবহার করতে চাইলে আগে সমর্থন যাচাই করা দরকার।
ফোনটিতে Wi-Fi 6, Wi-Fi 6E এবং আগের কয়েকটি Wi-Fi প্রযুক্তি সমর্থন রয়েছে। তবে Wi-Fi 6E ব্যবহার করতে উপযুক্ত রাউটার ও স্থানীয় সমর্থন দরকার। Bluetooth 5.4 থাকায় সমর্থিত হেডফোন, স্পিকার ও অন্যান্য ডিভাইসের সঙ্গে সংযোগ করা যায়। NFC সুবিধাও রয়েছে, তবে এর ব্যবহার অঞ্চলভেদে আলাদা হতে পারে।
অবস্থান নির্ণয়ের জন্য ফোনটিতে GPS, Galileo, GLONASS, QZSS, NavIC এবং BeiDou-এর মতো ব্যবস্থা সমর্থন রয়েছে। ফলে সমর্থিত নেটওয়ার্ক ও অ্যাপের মাধ্যমে ম্যাপ ব্যবহার এবং অবস্থান নির্ণয়ের কাজ করা যাবে।
তবে বাংলাদেশে 5G ব্যবহার করতে হলে আপনার এলাকায় 5G নেটওয়ার্ক থাকতে হবে এবং মোবাইল অপারেটরের সমর্থনও প্রয়োজন। শুধু ফোনে 5G লেখা থাকলেই সব এলাকায় 5G ব্যবহার করা যাবে না।
POCO X8s-এর পানি ও ধুলা প্রতিরোধ ক্ষমতা
POCO X8s-এ IP68 রেটিং রয়েছে। সহজভাবে বললে, নির্দিষ্ট পরীক্ষার শর্তে ফোনটি ধুলা এবং পানির বিরুদ্ধে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য পরীক্ষা করা হয়েছে। নির্মাতার তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষাগারে স্থির স্বচ্ছ পানিতে সর্বোচ্চ ২ মিটার গভীরতায় ৩০ মিনিট পর্যন্ত ডুবিয়ে পরীক্ষা করার শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ফোনটি যেকোনো পরিস্থিতিতে পানিতে নিরাপদ থাকবে। সমুদ্রের পানি, সুইমিং পুল, প্রবল পানির চাপ কিংবা দীর্ঘ সময় পানিতে রাখলে ফোনের ক্ষতি হতে পারে। প্রতিদিনের ব্যবহারে আঘাত লাগা বা ফোনের বয়স বাড়ার সঙ্গে সুরক্ষার ক্ষমতাও কমতে পারে।
তাই ফোনটি ভিজে গেলে চার্জ দেওয়ার আগে শুকিয়ে নেওয়া উচিত। ভেজা অবস্থায় চার্জিং পোর্টে কেবল লাগানো বা সিম ট্রে খোলাও এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন, IP68 থাকলেও পানিতে ক্ষতি হলে ওয়ারেন্টি পাওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই ইচ্ছা করে ফোন পানিতে ডুবিয়ে পরীক্ষা করবেন না।
POCO X8s-এর সফটওয়্যার
POCO X8s-এ Xiaomi HyperOS 3 অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে। ফোনের অ্যাপ ব্যবহার, সেটিংস পরিবর্তন, নোটিফিকেশন দেখা এবং দৈনন্দিন কাজ করার জন্য এই সফটওয়্যার ব্যবহার করা হবে। তবে কোন কোন ফিচার, অ্যাপ ও পরিষেবা পাওয়া যাবে, তা অঞ্চল, ফোনের সংস্করণ এবং সফটওয়্যার আপডেটের ওপর নির্ভর করতে পারে।
ফোনটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকলে সফটওয়্যার আপডেটের মেয়াদ এবং নিরাপত্তা আপডেট সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে অনলাইন ব্যাংকিং, ব্যক্তিগত ফাইল বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলে নিরাপত্তা আপডেটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।
POCO X8s-এর বক্সে কী কী থাকবে?
POCO-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফোনের প্যাকেজে মোবাইল ফোন, চার্জিং অ্যাডাপ্টার, USB Type-C কেবল, সিম বের করার টুল, সুরক্ষার কভার, নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য, দ্রুত ব্যবহার নির্দেশিকা, ওয়ারেন্টি কার্ড এবং আর্দ্রতা শোষণের প্যাকেট থাকতে পারে।
তবে সব দেশে বক্সের জিনিসপত্র একরকম নাও হতে পারে। তাই বাংলাদেশে ফোনটি কেনার সময় বক্সে চার্জার ও কভার আছে কি না, সেটি নিশ্চিত হয়ে নিন। বিশেষ করে ১০০ ওয়াট চার্জিংয়ের সুবিধা ব্যবহার করতে উপযুক্ত অ্যাডাপ্টার প্রয়োজন হতে পারে।
POCO X8s-এর ভালো দিক ও সীমাবদ্ধতা
POCO X8s-এর ভালো দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী Snapdragon 7 Gen 4 প্রসেসর, ১২০Hz LTPO AMOLED ডিসপ্লে, ৬,৩৩০mAh ব্যাটারি এবং ১০০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং। এর সঙ্গে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ৫০ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরা, ৮ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা এবং 4K ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাও রয়েছে।
অন্যদিকে, ফোনটির বাংলাদেশের প্রকৃত দাম, অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবা কেনার আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার। যারা বড় ডিসপ্লের ফোন পছন্দ করেন, তাদের কাছে ৬.৩৫ ইঞ্চি স্ক্রিন ছোট মনে হতে পারে। আবার ক্যামেরার বাস্তব ফলাফল এবং দীর্ঘ সময় গেমিংয়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পেতে নির্ভরযোগ্য রিভিউ দেখা ভালো।
সব ফিচার সবার কাজে লাগে না। তাই শুধু স্পেসিফিকেশন দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ফোনটি বেছে নিন।
POCO X8s কি কেনা উচিত?
আপনি যদি এমন একটি ফোন চান, যেটিতে ভালো ডিসপ্লে, শক্তিশালী প্রসেসর, বড় ব্যাটারি এবং দ্রুত চার্জিং রয়েছে, তাহলে POCO X8s আপনার বিবেচনার তালিকায় থাকতে পারে। এর কমপ্যাক্ট আকার, টেলিফটো ক্যামেরা এবং ১২০Hz ডিসপ্লে অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে।
আপনার কাজ যদি হয় ফেসবুক ব্যবহার, ইউটিউব দেখা, ছবি তোলা, ভিডিও বানানো এবং মাঝেমধ্যে গেম খেলা, তাহলে ফোনটির ফিচারগুলো কাজে আসতে পারে। তবে আপনি যদি শুধু সাধারণ কাজের জন্য ফোন কেনেন, তাহলে একই দামের কম দামের মডেলও আপনার প্রয়োজন পূরণ করতে পারে।
অন্যদিকে, ক্যামেরা আপনার প্রধান চাহিদা হলে ছবি ও ভিডিওর নমুনা দেখুন। গেমিংয়ের জন্য কিনলে নির্দিষ্ট গেমের পরীক্ষার ফলাফল যাচাই করুন। আর কেনার আগে অবশ্যই বাংলাদেশের দাম, ওয়ারেন্টি এবং বিক্রেতার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করুন। এতে আপনার টাকা খরচ করার সিদ্ধান্ত আরও ভালো হবে।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে POCO X8s-এর ফিচারগুলো বেশ আকর্ষণীয়। এর AMOLED ডিসপ্লে, Snapdragon 7 Gen 4 প্রসেসর, ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, ৬,৩৩০mAh ব্যাটারি এবং ১০০ ওয়াট চার্জিং দৈনন্দিন ব্যবহার থেকে শুরু করে গেমিং ও ছবি তোলার কাজেও কাজে লাগতে পারে। তবে ফোনটি আপনার জন্য সত্যিই ভালো হবে কি না, তা নির্ভর করবে আপনার বাজেট ও ব্যবহারের ধরনের ওপর।
আশা করি, POCO X8s-এর দাম, ক্যামেরা, ব্যাটারি এবং অন্যান্য ফিচার সম্পর্কে এখন আপনার পরিষ্কার ধারণা হয়েছে। ফোনটি কেনার পরিকল্পনা থাকলে আগে দাম ও ওয়ারেন্টি যাচাই করে নেবেন। আর প্রযুক্তি ও স্মার্টফোন নিয়ে এমন সহজ ভাষায় আরও তথ্য পেতে TechToolIt-এর সঙ্গে থাকুন। তাহলে আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। দেখা হবে পরবর্তী কোনো নতুন ব্লগে, নতুন কোনো প্রযুক্তির তথ্য নিয়ে। আর এই মোবাইল ফোন নিয়ে আপনার কোনও মতামত থাকলে অবশ্যয় জানান। ততোক্ষণ সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ। ধন্যবাদ।



টেক টুল আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url